মন এবং আত্মা

“আত্মা” – হল ‘চিৎকণা’ বা শক্তি, যাহা মানুষ, পশু, উদ্ভিদ, জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। প্রতিটি জীবের হৃদয়ে জীবাত্মা (আত্মা) ও পরমাত্মা উভয়ই বতর্মান। পরমাত্মার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ আসিয়া জীবাত্মায় যখন প্রোথিত হয় তখন জীব তাহার জীবন লাভ করে। আবার জীবের মৃত্যুর পর সেই আত্মা পুনরায় পরমাত্মার কাছে চলে যায় এবং পরমাত্মার সাথে বিলীন হয়। এটি হল সাযুজ্য মুক্তি। এতে কোনো আনন্দ নেই ।
কিন্তু, আত্মা যদি তার জীবিত অবস্হায় ধর্ম বা পূণ্য অথবা পাপ অর্জন করে, তখন সে তার কর্মফল ভোগ করার জন্য স্বর্গ অথবা নরক স্থান লাভ করে, অথবা, বলা যায় যোনি ভ্রমন করে ও পশু যোনি বা উদ্ভিদ যোনি প্রাপ্ত হয়, কিছু সময়ের জন্য।
ঐ সময়ে সে তার পূর্ব জন্ম-অর্জিত পূণ্য বা পাপ বিনষ্ট করে আবার পবিত্র হয়ে যায়, এবং পরমাত্মার সহিত বিলীন হয়ে যায়। পরমাত্মা, দেবাত্মা, মানবাত্মা (অর্থাৎ, জীবাত্মা), প্রেতাত্মা – এই চারি প্রকার আত্মার মধ্যে ‘দেবাত্মা’ হল পরমাত্মা দ্বারা নিয়োজিত শক্তি।
আর, আমরা সবাই জানি যে, পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস “সূর্য”। অর্থাৎ, নক্ষত্র সূর্য-ই শক্তি বিকিরণ করে। সেকারণে আত্মা-র সহিত সূর্যের একদিক থেকে similarity বা সাদৃশ্য রহিয়াছে।
আমাদের এই জীব শরীরের মধ্যে প্রাণ শক্তির ক্রিয়া আমরা দেখিতে পাই। এই প্রাণশক্তি-ই হইলো জীবাত্মা, এবং প্রাণের ধর্ম হইল সংকোচন ও প্রসারণ।
চার্লস ডারউইনের মতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলো প্রাণহীন জড় পদার্থ হইতে৷
আনুমানিক প্রায় তিনশত আশি কোটি বছর আগে এককোষী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় সাগরের জলে, তার পর বিবর্তনের ধারায় তারও প্রায় একশত কোটি বছর পরে বহু কোষী প্রাণের আবির্ভাব ঘটে; তবে মাত্র পাঁচকোটি সত্তর লক্ষ বছর আগে উন্মেষ ঘটে অর্তোপোডদের সম্ভবত তাদের কাছ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মৎসজাতীয় প্রাণীদের যাদের বয়স অনুমান করা হয় ৫৩০ কোটি বছর। বিজ্ঞান অনুযায়ী প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ বছর আগে প্রথম উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় যা থেকে সম্প্রসারিত হয় বনাঞ্চল প্রায় তিন কোটি পাঁচাশি লক্ষ বছর আগে। মেমালদের আবির্ভাব ঘটে মাত্র দুই কোটি বছর আগে; আর মানুষের জন্ম হয় খুব বেশী হলে ২ লক্ষ বছর পূর্বে।

‘মন’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় যে, বুদ্ধি এবং বিবেকবোধের এক সমষ্টিগত রূপ যা, চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছা এবং কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মন হলো এমন এক সত্ত্বা যাহা নিজের অবস্থা এবং ক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সচেতন। মনের স্বরূপ লক্ষণ হইলো ‘চেতনা’, যাহা হইতে জড় বস্তু আলাদা।
মন-চেতনা-উপলব্ধি এবং স্মৃতি সহ পঞ্চ-জ্ঞানেন্দ্রীয় চেতনার একটি সমন্বয়।
এটি একটি সত্ত্বা, এবং ইহা চেতনার ক্ষমতা ধারণ করে, এবং অনুভূতি ও আবেগ প্রক্রিয়াকরণের ইহাই কেন্দ্র।
বর্তমান চেতনার (focal awareness) পরিসরে না থাকা চেতনাকে অবচেতন (ইংরাজী: subconcious) বলা হয়। অবচেতন হ’ল মানব চেতনেরই একটা অংশ।
মানুষের মনোজগতকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায় ;

১। চেতন(Conscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইগো (Ego)

২। অবচেতন (Subconscious) বা প্রাক-চেতন (Preconscious)

৩। অচেতন (Unconscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইড (Id) ও সুপার ইগো (Super Ego)।

চেতন মনে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে সংযোগ রাখে।অবচেতন মনে সংযোগ রাখে অন্তর্জগতের সাথে অর্থাৎ, অতীত স্মৃতি ও জৈবিক প্রয়োজন সমূহের সাথে।
‘ইড’ হল মানব মনের মৌলিক স্তর,যেখানে মানব মনের সকল শক্তি নিহিত হয়ে থাকে। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’ ইডেরই স্তরভেদ। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’র নিজ শক্তি নেই; এরা ইডের শক্তিতেই জীবিত থাকে। উল্লেখ্য যে, ইড, ইগো ও সুপার ইগো’ – মানুষের মনের গঠনকে বোঝার কল্পিত এক-একটা ধারণা,এইগুলি মস্তিষ্কের কোনো অংশ নয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রের সহিত আমাদের মনের সাদৃশ্য দেখা যায়।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: