Bengal Institute of Oriental Studies

Online spiritual workshop organised by BIOS:

Online training workshop. 20th September, Sunday at 17:45 hrs (IST).

Topics: 1. Advanced Palmistry, 2. Educational Vastu and Numerology, 3. Natal chart interpretation and event predictions method: Time of Marriage, Time of getting a job, 4. Occupation: Business and financial development.

কালচক্রের মৌলিক ধারণা ও জ্যোতিষ:

কালচক্র পদ্ধতির প্রাথমিক ধারণাটি বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড (microcosm) এবং, জীবাত্মা (macrocosm) পরিচিতির এক অতি-প্রাচীন ধারণা। কালচক্র জ্ঞান আমাদের জীবাত্মা (soul) এবং মহাজাগতিক (cosmic) শক্তির একটি সমন্বয় সাধন করে থাকে এবং, দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তির পথ দেখায় (liberation from suffering)।
“কাল” অর্থে সময় এবং, “চক্র” অর্থে গোলাকৃতি মণ্ডল বা বৃত্ত। আমরা জানি যে, একটি বৃত্তের পরিধি ৩৬০ ডিগ্রী। আমাদের রাশিচক্র অথবা সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডকে একটি চক্রাকার দেশ (space) বা স্থান হিসাবে আমরা দেখতে পারি। এই দেশ (space)-কে আমরা দ্বি-মাত্রিক (2D) রূপে আঁকতে পারি আবার, ত্রি-মাত্রিক (3D) রূপে দেখতে পারি। আমরা একটা সাদা কাগজে যখন কোনো বৃত্ত অঙ্কন করি তখন তা “দ্বি-মাত্রিক” আর, চোখের সামনে আমরা যা কিছু দেখছি তা সমস্থই “ত্রি-মাত্রিক”। অর্থাৎ, যে সমস্ত দৃশ্যমান বস্তুর দৈর্ঘ-প্রস্থ-বেধ পরিমাপ করা যায় তাকে “ত্রি-মাত্রিক” বলা হয়। তাহলে, আমরা “দেশ” (space) বা স্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পেলাম।
এখন আমরা “কাল” (time) বা সময় সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করবো। “কলয়তি ইতি কালঃ”।। – অর্থাৎ, যাহা রূপধারণ করে, যাহা কলা বিস্তার করে, – যাহার কলন আছে তাহাই “কাল”। ‘কাল’ বা সময়কে আমরা তিন ভাগে বিভক্ত রূপে ধারণা করি যথা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ। “বর্তমান” হলো নিত্য এবং “উত্তম পুরুষ”। যখন আমরা “দেশ” (space) বা স্থানকে খণ্ড খণ্ড রূপে বিভক্ত করি তখনই আমাদের “কাল” (time) বা সময় রূপ intuitive concept বা স্বজ্ঞামূলক ধারণার উদ্ভব হয়। অর্থাৎ, কাল বা সময় হলো – আমাদের মনের একটি ধারনা যাহা আমাদের স্মৃতি শক্তির উপর নির্ভরশীল। সে কারণে মনের গতির উপর নির্ভর ক’রে সময়ের গতি। কাল বা সময় হলো বস্তুর ৪র্থ মাত্রা (4th dimension), এবং, সময় হ’ল স্থান (space) এর ভগ্নাংশ। আর, আমাদের মনের গতি বা চঞ্চলতা নির্ভর ক’রে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতির উপর। শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর যখন প্রথম শ্বাস গ্রহন করে ক্রন্দন করে ওঠে তখনই তার জীবনের শুরু (starting of life)- হয় এবং, যখন সেই মানুষ শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তখনই জীবনের শেষ (ending of life) বা এই দেহের মৃত্যু ঘটে। এই হ’ল আমাদের মানব জীবনের জন্ম-মৃত্যু নামক “কাল” বা সময়, যাকে আমরা জীবন-কাল (span of life)- বলি।
“লোকানামন্তকৃৎ কালঃ কালোহন্যাঃ কলনাত্মকঃ। স দ্বিধা স্থূল-সুক্ষ্মত্বান্মূর্তশ্চামূর্ত উচ্যতে”।। – “কাল” দ্বিবিধ প্রকার। পদার্থ সমূহের অন্তকারী যে কাল, উহা “মহাকাল”। আর, যাহা “কলনাত্মক” অর্থাৎ, জ্ঞানযোগ্য, আদি-অন্ত আছে তাকে “খণ্ডকাল” বলা হয়।
“কালচক্র” হল তিব্বতীয় তন্ত্র-যোগ-জ্যোতিষের এক বিস্তৃত জ্ঞানভাণ্ডার। বৌদ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে, ব্রহ্মান্ডের সম্পূর্ণ চক্রের চারটি শর্ত রয়েছে,- শূণ্য (বিন্দু), স্বরূপ (সৃষ্টি), অবধি (স্থিতি) এবং বিধ্বংস (লয়) । “কালচক্র” প্রাথমিক ভাবে তিনটি স্তরে সাজানো থাকে,- বহির্দ্দেশ (Outer / Physical Body) চক্র, অন্তর্দ্দেশ (Inner / Prana / Astral Body) চক্র এবং, বিকল্প পর্যায়ক্রমিক (other / Mind Body) চক্র।

সদ্ গুরুর আশ্রিত শিষ‍্যই সহজে কর্ম্মরহস‍্য অবগত হতে পারেন।

সদ্ গুরুর আশ্রিত বিবেকী শিষ‍্যের পক্ষে কর্ম্মতত্বটির এই গহন রহস্য অবধারণ করা অপেক্ষাকৃত সহজতর। কেননা এইরূপ আশ্রিত শিষ‍্য প্রথমতঃ উপলব্ধি করেন – শ্রীগুরু চরণে
আত্মসমর্পণ করার পর হতে তার যাবতীয় কাজকর্ম্ম, আশা – আকাঙ্খা তার সেই আশ্রয়দাতা সদ্ গুরুর আদেশ – নির্দেশেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।অর্থাৎ , যন্ত্রীরূপে তিনি তাঁকে দিয়ে সবকিছু করিয়ে নিচ্ছেন। সুতরাং , সেই সমস্ত কর্ম্মের ফলাফলের জন্য তার আর চিন্তা ভাবনা কি ?
এই অবস্থায় শিষ‍্য তার দেহেন্দ্রিয়ের দ্বারা অনুষ্ঠিত যাবতীয় কর্ম্মের মধ‍্যে ‘অকর্ম্ম’ দর্শন করেন এই তত্বটি বোঝাবার জন্য সঙ্ঘনেতা আচার্য্য প্রণবানন্দ তাঁর আশ্রিত সন্তানগণকে লক্ষ্য করে বলতেন — “শরীরটি সঙ্ঘের কাজকর্ম্মে পৃথিবীময় ঘুরিয়া বেড়াইবে , কিন্তু মনটি পড়িয়া থাকিবে একস্থানে – সদ্গুরুর চরণমূলে।” বস্ততঃ,গুরুর কৃপায় শিষ‍্য তখন সত‍্যসত‍্যই উপলব্ধি করতে পারেন, 'আমি কর্ম্ম করি' এইরূ অভিমান যেমন বন্ধনের কারণ,’ আমি কর্ম্ম করি না’ – এইরূপ অভিমানও তেমনই বন্ধনের হেতু।
কারণ, যতদিন মনে আমিত্বের বিন্দুমাত্র অভিমান ও ফলাশক্তি বিদ‍্যমান থাকে ততদিন কর্ম্ম করলেও যেমন বন্ধন হয় , কর্ম্ম না করে নিশ্চেষ্ট ভাবে বসে থাকলেও তেমনি কর্ম্মবন্ধনের আশঙ্কা থাকে। কেননা, এইরূপ নিশ্চেষ্ট অবস্থায় কর্ম্মক্ষয় না হয়ে বরং তমোভাব শতগুণ বর্দ্ধিত হয়ে তার কর্ম্মবন্ধন আরও দীর্ঘস্থায়ী ও দৃঢ়তর করে তোলে।সুতরাং, সর্ব্বাবস্থায় সদ্গুরুর নির্দ্দেশ মত চলা ও কর্ম্মকরাই কর্ম্মবন্ধন হতে মুক্তিলাভের সহজ ও সরল উপায়।

“যস‍্য সর্ব্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জ্জিতাঃ
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্ম্মাণং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধা।।” ১৯ অনুবাদ - যাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ও কামনা আশক্তিবর্জ্জিত, জ্ঞানরূপ অগ্নির দ্বারা যাঁর কর্ম্ম - সমূহ দগ্ধ হয়েছে সেরূপ ব‍্যক্তিকে জ্ঞানীগণ পণ্ডিত বলে অভিহিত করেন।

স্বামী অদ্বৈতানন্দজী মহারাজ। (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা) ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ।

মন এবং আত্মা

“আত্মা” – হল ‘চিৎকণা’ বা শক্তি, যাহা মানুষ, পশু, উদ্ভিদ, জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। প্রতিটি জীবের হৃদয়ে জীবাত্মা (আত্মা) ও পরমাত্মা উভয়ই বতর্মান। পরমাত্মার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ আসিয়া জীবাত্মায় যখন প্রোথিত হয় তখন জীব তাহার জীবন লাভ করে। আবার জীবের মৃত্যুর পর সেই আত্মা পুনরায় পরমাত্মার কাছে চলে যায় এবং পরমাত্মার সাথে বিলীন হয়। এটি হল সাযুজ্য মুক্তি। এতে কোনো আনন্দ নেই ।
কিন্তু, আত্মা যদি তার জীবিত অবস্হায় ধর্ম বা পূণ্য অথবা পাপ অর্জন করে, তখন সে তার কর্মফল ভোগ করার জন্য স্বর্গ অথবা নরক স্থান লাভ করে, অথবা, বলা যায় যোনি ভ্রমন করে ও পশু যোনি বা উদ্ভিদ যোনি প্রাপ্ত হয়, কিছু সময়ের জন্য।
ঐ সময়ে সে তার পূর্ব জন্ম-অর্জিত পূণ্য বা পাপ বিনষ্ট করে আবার পবিত্র হয়ে যায়, এবং পরমাত্মার সহিত বিলীন হয়ে যায়। পরমাত্মা, দেবাত্মা, মানবাত্মা (অর্থাৎ, জীবাত্মা), প্রেতাত্মা – এই চারি প্রকার আত্মার মধ্যে ‘দেবাত্মা’ হল পরমাত্মা দ্বারা নিয়োজিত শক্তি।
আর, আমরা সবাই জানি যে, পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস “সূর্য”। অর্থাৎ, নক্ষত্র সূর্য-ই শক্তি বিকিরণ করে। সেকারণে আত্মা-র সহিত সূর্যের একদিক থেকে similarity বা সাদৃশ্য রহিয়াছে।
আমাদের এই জীব শরীরের মধ্যে প্রাণ শক্তির ক্রিয়া আমরা দেখিতে পাই। এই প্রাণশক্তি-ই হইলো জীবাত্মা, এবং প্রাণের ধর্ম হইল সংকোচন ও প্রসারণ।
চার্লস ডারউইনের মতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলো প্রাণহীন জড় পদার্থ হইতে৷
আনুমানিক প্রায় তিনশত আশি কোটি বছর আগে এককোষী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় সাগরের জলে, তার পর বিবর্তনের ধারায় তারও প্রায় একশত কোটি বছর পরে বহু কোষী প্রাণের আবির্ভাব ঘটে; তবে মাত্র পাঁচকোটি সত্তর লক্ষ বছর আগে উন্মেষ ঘটে অর্তোপোডদের সম্ভবত তাদের কাছ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মৎসজাতীয় প্রাণীদের যাদের বয়স অনুমান করা হয় ৫৩০ কোটি বছর। বিজ্ঞান অনুযায়ী প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ বছর আগে প্রথম উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় যা থেকে সম্প্রসারিত হয় বনাঞ্চল প্রায় তিন কোটি পাঁচাশি লক্ষ বছর আগে। মেমালদের আবির্ভাব ঘটে মাত্র দুই কোটি বছর আগে; আর মানুষের জন্ম হয় খুব বেশী হলে ২ লক্ষ বছর পূর্বে।

‘মন’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় যে, বুদ্ধি এবং বিবেকবোধের এক সমষ্টিগত রূপ যা, চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছা এবং কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মন হলো এমন এক সত্ত্বা যাহা নিজের অবস্থা এবং ক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সচেতন। মনের স্বরূপ লক্ষণ হইলো ‘চেতনা’, যাহা হইতে জড় বস্তু আলাদা।
মন-চেতনা-উপলব্ধি এবং স্মৃতি সহ পঞ্চ-জ্ঞানেন্দ্রীয় চেতনার একটি সমন্বয়।
এটি একটি সত্ত্বা, এবং ইহা চেতনার ক্ষমতা ধারণ করে, এবং অনুভূতি ও আবেগ প্রক্রিয়াকরণের ইহাই কেন্দ্র।
বর্তমান চেতনার (focal awareness) পরিসরে না থাকা চেতনাকে অবচেতন (ইংরাজী: subconcious) বলা হয়। অবচেতন হ’ল মানব চেতনেরই একটা অংশ।
মানুষের মনোজগতকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায় ;

১। চেতন(Conscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইগো (Ego)

২। অবচেতন (Subconscious) বা প্রাক-চেতন (Preconscious)

৩। অচেতন (Unconscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইড (Id) ও সুপার ইগো (Super Ego)।

চেতন মনে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে সংযোগ রাখে।অবচেতন মনে সংযোগ রাখে অন্তর্জগতের সাথে অর্থাৎ, অতীত স্মৃতি ও জৈবিক প্রয়োজন সমূহের সাথে।
‘ইড’ হল মানব মনের মৌলিক স্তর,যেখানে মানব মনের সকল শক্তি নিহিত হয়ে থাকে। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’ ইডেরই স্তরভেদ। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’র নিজ শক্তি নেই; এরা ইডের শক্তিতেই জীবিত থাকে। উল্লেখ্য যে, ইড, ইগো ও সুপার ইগো’ – মানুষের মনের গঠনকে বোঝার কল্পিত এক-একটা ধারণা,এইগুলি মস্তিষ্কের কোনো অংশ নয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রের সহিত আমাদের মনের সাদৃশ্য দেখা যায়।