Bengal Institute of Oriental Studies

মন এবং আত্মা

“আত্মা” – হল ‘চিৎকণা’ বা শক্তি, যাহা মানুষ, পশু, উদ্ভিদ, জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। প্রতিটি জীবের হৃদয়ে জীবাত্মা (আত্মা) ও পরমাত্মা উভয়ই বতর্মান। পরমাত্মার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ আসিয়া জীবাত্মায় যখন প্রোথিত হয় তখন জীব তাহার জীবন লাভ করে। আবার জীবের মৃত্যুর পর সেই আত্মা পুনরায় পরমাত্মার কাছে চলে যায় এবং পরমাত্মার সাথে বিলীন হয়। এটি হল সাযুজ্য মুক্তি। এতে কোনো আনন্দ নেই ।
কিন্তু, আত্মা যদি তার জীবিত অবস্হায় ধর্ম বা পূণ্য অথবা পাপ অর্জন করে, তখন সে তার কর্মফল ভোগ করার জন্য স্বর্গ অথবা নরক স্থান লাভ করে, অথবা, বলা যায় যোনি ভ্রমন করে ও পশু যোনি বা উদ্ভিদ যোনি প্রাপ্ত হয়, কিছু সময়ের জন্য।
ঐ সময়ে সে তার পূর্ব জন্ম-অর্জিত পূণ্য বা পাপ বিনষ্ট করে আবার পবিত্র হয়ে যায়, এবং পরমাত্মার সহিত বিলীন হয়ে যায়। পরমাত্মা, দেবাত্মা, মানবাত্মা (অর্থাৎ, জীবাত্মা), প্রেতাত্মা – এই চারি প্রকার আত্মার মধ্যে ‘দেবাত্মা’ হল পরমাত্মা দ্বারা নিয়োজিত শক্তি।
আর, আমরা সবাই জানি যে, পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস “সূর্য”। অর্থাৎ, নক্ষত্র সূর্য-ই শক্তি বিকিরণ করে। সেকারণে আত্মা-র সহিত সূর্যের একদিক থেকে similarity বা সাদৃশ্য রহিয়াছে।
আমাদের এই জীব শরীরের মধ্যে প্রাণ শক্তির ক্রিয়া আমরা দেখিতে পাই। এই প্রাণশক্তি-ই হইলো জীবাত্মা, এবং প্রাণের ধর্ম হইল সংকোচন ও প্রসারণ।
চার্লস ডারউইনের মতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলো প্রাণহীন জড় পদার্থ হইতে৷
আনুমানিক প্রায় তিনশত আশি কোটি বছর আগে এককোষী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় সাগরের জলে, তার পর বিবর্তনের ধারায় তারও প্রায় একশত কোটি বছর পরে বহু কোষী প্রাণের আবির্ভাব ঘটে; তবে মাত্র পাঁচকোটি সত্তর লক্ষ বছর আগে উন্মেষ ঘটে অর্তোপোডদের সম্ভবত তাদের কাছ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মৎসজাতীয় প্রাণীদের যাদের বয়স অনুমান করা হয় ৫৩০ কোটি বছর। বিজ্ঞান অনুযায়ী প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ বছর আগে প্রথম উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় যা থেকে সম্প্রসারিত হয় বনাঞ্চল প্রায় তিন কোটি পাঁচাশি লক্ষ বছর আগে। মেমালদের আবির্ভাব ঘটে মাত্র দুই কোটি বছর আগে; আর মানুষের জন্ম হয় খুব বেশী হলে ২ লক্ষ বছর পূর্বে।

‘মন’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় যে, বুদ্ধি এবং বিবেকবোধের এক সমষ্টিগত রূপ যা, চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছা এবং কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মন হলো এমন এক সত্ত্বা যাহা নিজের অবস্থা এবং ক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সচেতন। মনের স্বরূপ লক্ষণ হইলো ‘চেতনা’, যাহা হইতে জড় বস্তু আলাদা।
মন-চেতনা-উপলব্ধি এবং স্মৃতি সহ পঞ্চ-জ্ঞানেন্দ্রীয় চেতনার একটি সমন্বয়।
এটি একটি সত্ত্বা, এবং ইহা চেতনার ক্ষমতা ধারণ করে, এবং অনুভূতি ও আবেগ প্রক্রিয়াকরণের ইহাই কেন্দ্র।
বর্তমান চেতনার (focal awareness) পরিসরে না থাকা চেতনাকে অবচেতন (ইংরাজী: subconcious) বলা হয়। অবচেতন হ’ল মানব চেতনেরই একটা অংশ।
মানুষের মনোজগতকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায় ;

১। চেতন(Conscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইগো (Ego)

২। অবচেতন (Subconscious) বা প্রাক-চেতন (Preconscious)

৩। অচেতন (Unconscious) এবং এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ইড (Id) ও সুপার ইগো (Super Ego)।

চেতন মনে জাগ্রত অবস্থায় মানুষ পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে সংযোগ রাখে।অবচেতন মনে সংযোগ রাখে অন্তর্জগতের সাথে অর্থাৎ, অতীত স্মৃতি ও জৈবিক প্রয়োজন সমূহের সাথে।
‘ইড’ হল মানব মনের মৌলিক স্তর,যেখানে মানব মনের সকল শক্তি নিহিত হয়ে থাকে। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’ ইডেরই স্তরভেদ। ‘ইগো’ ও ‘সুপার ইগো’র নিজ শক্তি নেই; এরা ইডের শক্তিতেই জীবিত থাকে। উল্লেখ্য যে, ইড, ইগো ও সুপার ইগো’ – মানুষের মনের গঠনকে বোঝার কল্পিত এক-একটা ধারণা,এইগুলি মস্তিষ্কের কোনো অংশ নয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রের সহিত আমাদের মনের সাদৃশ্য দেখা যায়।

Astrological causes for Cancer Disease

Cancer is a very dangerous disease. Cancer can be cured if detected and treated early.

what is cancer? It is a group of diseases characterized by abnormal, uncontrolled and lawless growth of the body-cells. It is seen that not only human being but also plants and animals are liable to cancerous growths. The usual sites of cancer in our body are skin, larynx, mouth, breast, lung, stomach, uterus, rectum, bone etc. Lawless growth of body-cells steal the food-supply of other normal and useful cells in the body thereby causing damage to the normal and useful cells.

In Astrology, cancer is caused by several grahas (planet) in affliction. The most prominent one is Ketu.

  • When Mars, Moon and the lord of the sixth house conjuncts each other in a horoscope along with Sun, then the person has a risk of getting cancer disease.
  • If Moon and Saturn are in the sixth house of the horoscope, then the person can get Cancer after the age of 55.
  • Conjunction of Jupiter, Saturn and Ketu can become the cause of Cancer.
  • Afflicted Mars and relation of Ashlesha Nakshatra with the ascendant and the sixth house can also result in Cancer.
  • According to Dr. B.V Ramana, the risk of Cancer is high when the lord of the sixth house being a malefic is situated in the ascendant, eighth, or tenth house of the horoscope.
  • Saturn in the afflicted state situated in the nakshatra of Rahu can also cause Cancer.
  • When Saturn and Mars conjuncts in the sixth house in Addra or Swati nakshatra.

For Skin Cancer

  • Skin cancer is caused when the Mars and the Rahu afflict the sixth or the eighth house.
  • It is also caused when the Aries sign is in the sixth house, or swati nakshatra or shatabhisha nakshatra and the sixth house is afflicted by the Saturn.

For Stomach Cancer

  • Stomach cancer can be caused when the Rahu or Ketu are in the ascendant with the lord of the sixth house.
  • When the sixth house is afflicted and Rahu or Ketu are situated in the tenth or eighth house.

For Blood-cancer (Leukemia)

  • Mars governs the blood, as well as blood-carrying veins, Ketu gives mysterious diseases. If Ketu or Rahu in Leo sign and heavily afflicted then gives Leukemia.
  • If Mars in Gemini or Aquarius and heavily afflicted, it causes leukemia or other blood disease.
  • Saturn in Libra if heavily afflicted confers leukemia.

জ্যোতিষ জ্ঞান, পূর্ব-জন্ম জ্ঞান ও কৈবল্য মুক্তি বা মোক্ষলাভ প্রসঙ্গ

ভারতীয় জ্যোতিষ হইল, একটি আধ্যাত্মবিদ্যা সম্পর্কিত শাস্ত্র। মানব, সংসার-সমুদ্রে কেবলমাত্র নিজকৃত কর্মফলই ভোগ করিয়া থাকে।

জাতক-জীবনের যাবতীয় প্রাক্তন কর্মফল, জন্মলগ্ন ও দশমলগ্ন হইতেই বিচার্য্য। চন্দ্র হইল জাতকের ‘মন’, সূর্য্য হইল ‘আত্মা’, এবং, ‘কেতু’ হইল অবচেতন মনের নির্দেশক গ্রহ। কেতুর আর এক নাম ‘প্রজ্ঞা’। কেতু হইল আধ্যাত্মিক গ্রহ, ‘মোক্ষ’ কারক। পুণরায়, রাশিচক্রের ‘দ্বাদশতম’ ভাব হইতেছে ‘মোক্ষস্থান’।

আত্ম-তত্ত্বজ্ঞানই মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়। যখন আত্মজ্ঞান লাভ হইয়া ‘সমাধি’-স্তরে সাধক উন্নিত হন, তখন তাঁর আর ভেদজ্ঞান থাকে না, এক ও অদ্বৈত ব্রহ্ম-সত্তায় সাধক একীভূত হইয়া যান।  

জন্মলগ্ন ব্যতীত, প্রতিটি ভাবস্ফুট নির্ণীত হইবে,- দশমলগ্ন বা কর্মলগ্ন হইতে। জীবন ও মৃত্যু মূলতঃ অভিন্ন, অর্থাৎ, জন্ম ও মৃত্যু অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতপক্ষে, মৃত্যু বলিয়া ব্রহ্মাণ্ডে কিছুই নাই। মৃত্যু মূলতঃ একটি বিবর্ত্তনমাত্র। মৃত্যুকে উপলব্ধি করিয়াই মুক্তি, মোক্ষ বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হইয়া থাকে। মৃত্যুকে প্রকৃত সাধক বা যোগিগণ অতি সহজ ও স্বাভাবিক রূপে গ্রহণ করিয়া থাকেন। প্রকৃত জ্ঞানী মৃত্যুতে কখনও বিচলিত হন না।

পূর্বেই বলিয়াছি, ‘চন্দ্র’- মনের কারক গ্রহ। ‘চন্দ্র’- খণ্ডকাল বা সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে, মনের চিন্তা-ধারাকে প্রতিফলিত করিয়া থাকে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে, আমাদের মানসিক জগতে নানান বিচিত্র ধরণের চিন্তার স্রোত উৎপন্ন হইতে থাকে। ঐ চিন্তা-স্রোতের তরঙ্গ অনুসারে আমরা, কখনও উৎফুল্ল বা আনন্দিত থাকি আবার, কখনোবা প্রচণ্ড বিমর্ষ বা দুঃখ অনুভব হয়। আবার, মনই আমাদের সেই ‘আয়না’- যেখানে আমরা নিজ স্বরূপকে প্রতিফলিত রূপে দেখিতে পাইতে পারি। 

যেহেতু, কর্মদ্বারাই, ‘দেবত্ব’- প্রাপ্ত হওয়া যায়, সে কারণে কর্মের প্রভাবই প্রবল বলা হইয়া থাকে। কর্ম ত্রিবিধ, যথা – সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক। কর্মফলের আশা না রাখিয়া অর্থাৎ, দেবোদ্দেশ্যে যে ‘কর্ম’- তাহাই সাত্ত্বিক কর্ম, ইহাকে ‘দিব্যভাব’ বলা হইয়া থাকে। সঙ্কল্প সহিত কামনাপূর্ণ যে কর্ম এবং যাহাতে হিংসাদি নাই, তাহা রাজসিক কর্ম, ইহাকে ‘বীরভাব’ বলা হয়, এবং, হিংসাদি যুক্ত ও কামনাপূর্ণ কর্মই তামসিক, ইহাকে ‘পশুভাব’ বলা হইয়াছে।  ভাব অর্থে ‘তন্ময়তা’-কে বুঝায়। ভগবৎশক্তি বিন্দুমাত্র আয়ত্ত করিতে হইলে, তাঁহাতে ‘তন্ময়’- হইতে হইবে।  

রাশিচক্রের পঞ্চম গৃহ নির্দ্দেশ করে জাতকের মন্ত্র-দীক্ষা লাভের বিষয়, দশম গৃহ নির্দ্দেশ করে প্রত্যহ যথা নিয়মে জপ অভ্যাস করিতেছে কি না। একাদশ গৃহ নির্দ্দেশ করে প্রাপ্তি বা সিদ্ধি লাভ। আমাদের এই ‘ভাণ্ড’ বা মনুষ্য দেহটি হইল বিশ্ব-‘ব্রহ্মাণ্ড’-র ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, অর্থাৎ, আমাদের দেহ এবং দেহের মধ্যে যে ক্রিয়া সকল চলিতেছে, ঠিক তদনুরূপ ক্রিয়াই বৃহৎ-আকারে বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে চলিতেছে। বিপরীত ভাবেও বলা যায়, – বৃহৎ বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড-মধ্যে যে ক্রিয়া চলিতেছে ঠিক তেমনই ক্রিয়া আমাদের ক্ষুদ্র-ব্রহ্মাণ্ড রূপ দেহভাণ্ডে চলিতেছে। আমরা ‘এক’ থেকেই বহু হয়েছি তাই, আমরা একে অপরের থেকে যতো দূরেই থাকি-না-কেন আমাদের মধ্যে একটি আশ্চর্য ধরণের সম্পর্ক থেকেই যায় (non-local connection)।

The Brihat Parasara Hora Sastra mentions the Dash-Avatara as follows:

From the Sun God the Incarnation of Rama, from the Moon that of Krishna, from Mars that of Narasimha, from Mercury that of Buddha, from Jupiter that of Vamana, from Venus that of Parasurama, from Saturn that of Koorma (Tortoise), from Rahu that of Varaha [Boar] and from Ketu that of Matsya occurred. All other incarnations that these are through the Grahas. The beings with more Paramatmamsa [i.e. Rama, Krishna, Narasimha and Varaha] are called divine beings’.

Brihat Parasara Hora Sastra, Translated by R. Santhanam (1984), Chapter 2, Verses 5-7.

Notably, according to the Brihat Parasara Hora Sastra – an important Smriti Sastra or compilation of Indian astrology for prediction (i.e. fortune telling) – although all ten of the Dashavatara have corresponding astrological symbols, only four are considered as divine beings (i.e. Rama, Krishna, Narasimha and Varaha).

The sun is the soul of all. The Moon is the mind. Mars is one’s strength. Mercury is speech-giver while Jupiter confers knowledge and happiness. Venus governs semen (potency) while Saturn denotes grief.

Of royal status are the Sun and the Moon while Mars is the army chief. Prince-apparent in Mercury. The ministerial planets are Jupiter and Venus. Saturn is servant. Rahu and Ketu form the planetary army.

— Brihat Parasara Hora Sastra, Translated by R. Santhanam (1984), Chapter 3, Verses 12-15.

শ্রী বিষ্ণু বা নারায়ণের চতুর্থ অবতার শ্রী নৃসিংহদেব।

নৃসিংহের অবতারে বিষ্ণু সত্যযুগে অবতীর্ণ হন। ভাগবত পুরাণ-এ বর্ণিত নৃসিংহের কাহিনিটি: নৃসিংহের পূর্ববর্তী অবতার বরাহ হিরণ্যাক্ষ নামে এক রাক্ষসকে বধ করেন। হিরণ্যাক্ষের ভাই হিরণ্যকশিপু এই কারণে প্রবল বিষ্ণুবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। দাদার হত্যার প্রতিশোধ মানসে তিনি বিষ্ণুকে হত্যা করার পথ খুঁজতে থাকেন। তিনি মনে করেন, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা এই জাতীয় প্রবল ক্ষমতা প্রদানে সক্ষম। তিনি বহু বছর ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেন। ব্রহ্মাও হিরণ্যকশিপুর তপস্যায় সন্তুষ্ট হন।
তিনি হিরণ্যকশিপুর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বর দিতে চান। হিরণ্যকশিপু বলেন —- হে প্রভু, হে শ্রেষ্ঠ বরদাতা, আপনি যদি আমাকে সত্যই বর দিতে চান, তবে এমন বর দিন যে বরে আপনার সৃষ্ট কোনো জীবের হস্তে আমার মৃত্যু ঘটবে না। আমাকে এমন বর দিন যে বরে আমার বাসস্থানের অন্দরে বা বাহিরে আমার মৃত্যু ঘটবে না; দিবসে বা রাত্রিতে, ভূমিতে বা আকাশে আমার মৃত্যু হবে না। আমাকে এমন বর দিন যে বরে শস্ত্রাঘাতে, মনুষ্য বা পশুর হাতে আমার মৃত্যু হবে না। আমাকে এমন বর দিন যে বরে কোনো জীবিত বা মৃত সত্তার হাতে আমার মৃত্যু হবে না; কোনো উপদেবতা, দৈত্য বা পাতালের মহানাগ আমাকে হত্যা করতে পারবে না; যুদ্ধক্ষেত্রে আপনাকে কেউই হত্যা করতে পারে না; তাই আপনার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আমাকে বর দিন যাতে আমারও কোনো প্রতিযোগী না থাকে। এমন বর দিন যাতে সকল জীবসত্তা ও প্রভুত্বকারী দেবতার উপর আমার একাধিপত্য স্থাপিত হয় এবং আমাকে সেই পদমর্যাদার উপযুক্ত সকল গৌরব প্রদান করুন। এছাড়া আমাকে তপস্যা ও যোগসাধনার প্রাপ্তব্য সকল সিদ্ধাই প্রদান করুন, যা কোনোদিনও আমাকে ত্যাগ করবে না।’

হিরণ্যকশিপু যখন মন্দার পর্বতে তপস্যা করছিলেন, তখন ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবগণ তাঁর প্রাসাদ আক্রমণ করেন। দেবর্ষি নারদ হিরণ্যকশিপুর স্ত্রী কায়াদুকে রক্ষা করেন। দেবর্ষি দেবগণের নিকট কায়াদুকে ‘পাপহীনা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। নারদ কায়াদুকে নিজ আশ্রমে নিয়ে যান। সেখানে কায়াদু প্রহ্লাদ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। নারদ প্রহ্লাদকে শিক্ষিত করে তোলেন। নারদের প্রভাবে প্রহ্লাদ হয়ে ওঠেন পরম বিষ্ণুভক্ত। এতে তাঁর পিতা হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। ক্রমে প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তিতে হিরণ্যকশিপু এতটাই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন যে তিনি নিজ পুত্রকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যতবারই তিনি বালক প্রহ্লাদকে বধ করতে যান, ততবারই বিষ্ণুর মায়াবলে প্রহ্লাদের প্রাণ রক্ষা পায়।
হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে বলেন তাঁকে ত্রিভুবনের অধিপতি রূপে স্বীকার করে নিতে। প্রহ্লাদ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন একমাত্র বিষ্ণুই এই ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ প্রভু। ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু তখন একটি স্তম্ভ দেখিয়ে প্রহ্লাদকে জিজ্ঞাসা করেন যে তার ‘বিষ্ণু’ সেখানেও আছেন কিনা। প্রহ্লাদ উত্তর দিলেন — ‘তিনি এই স্তম্ভে আছেন, এমনকি ক্ষুদ্রতম যষ্টিটিতেও আছেন।’ হিরণ্যকশিপু ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে গদার আঘাতে স্তম্ভটি ভেঙে ফেলেন। তখনই সেই ভগ্ন স্তম্ভ থেকে প্রহ্লাদের সাহায্যার্থে নৃসিংহের মূর্তিতে আবির্ভূত হন বিষ্ণু। ব্রহ্মার বর যাতে বিফল না হয়, অথচ হিরণ্যকশিপুকেও হত্যা করা যায়, সেই কারণেই বিষ্ণু নর-সিংহের বেশ ধারণ করেন: হিরণ্যকশিপু দেবতা, মানব বা পশুর মধ্য নন, তাই নৃসিংহ পরিপূর্ণ দেবতা, মানব বা পশু নন; হিরণ্যকশিপুকে দিবসে বা রাত্রিতে বধ করা যাবে না, তাই নৃসিংহ দিন ও রাত্রির সন্ধিস্থল গোধূলী সময়ে তাঁকে বধ করেন; হিরণ্যকশিপু ভূমিতে বা আকাশে কোনো শস্ত্রাঘাতে বধ্য নন, তাই নৃসিংহ তাঁকে নিজ জঙ্ঘার উপর স্থাপন করে নখরাঘাতে হত্যা করেন; হিরণ্যকশিপু নিজ গৃহ বা গৃহের বাইরে বধ্য ছিলেন না, তাই নৃসিংহ তাঁকে বধ করেন তাঁরই গৃহদ্বারে।
.
ভাগবত পুরাণ-এ আরও বলা হয়েছে –
হিরণ্যকশিপুকে বধ করার পর সকল দেবতাই নৃসিংহদেবের ক্রোধ নিবারণে ব্যর্থ হন। নৃসিংহকে শান্ত করতে শিব প্রথমে বীরভদ্রকে প্রেরণ করেন। বীরভদ্র ব্যর্থ হল। বিফল হন স্বয়ং শিবও। বীরভদ্র ব্যর্থ হলে শিব স্বয়ং মনুষ্য-সিংহ-পক্ষী রূপী শরভের রূপ ধারণ করেন। এই কাহিনির শেষভাগে বলা হয়েছে, শরভ কর্তৃক বদ্ধ হয়ে বিষ্ণু শিবের ভক্তে পরিণত হন। সকল দেবগণ তখন তাঁর পত্নী লক্ষ্মীকে ডাকেন; কিন্তু লক্ষ্মীও স্বামীর ক্রোধ নিবারণে অক্ষম হন। তখন ব্রহ্মার অনুরোধে প্রহ্লাদ এগিয়ে আসেন। ভক্ত প্রহ্লাদের স্তবগানে অবশেষে নৃসিংহদেব শান্ত হন। প্রত্যাবর্তনের পূর্বে নৃসিংহদেব প্রহ্লাদকে রাজা করে দেন।
আজ দেশের সঙ্কটকালে এই নৃসিংহদেবের মত শক্তিশালী ও কৌশুলী, বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান, পণ্ডিত ও সত্যাশ্রয়ী দেশনেতার প্রয়োজন।