Bengal Institute of Oriental Studies

Kurukshetra War, Tsunami & Earthquake in Dwaraka

The Gregorian Calendar (we used Drik Siddhanta Panjika method) indeed vouches for the Kurukshetra War to have taken place, as it states the beginning of Kali Yuga. Per the Calendar, the event occurred on November 09, 3125 BCE at 08:00:00 AM. Both, the Eastern and Western culture have accepted this date and time to have been the beginning of Kali Yuga and, also the death of Lord Krishna.

Sri Krishna was 6 month elder than Arjuna.

Age of Arjuna & Sri Krishna during Mahabharata War (BCE 3125)

Arjuna & Sri Krishna:- 102 years

Lord Sri Krishna was born on 8th dark night of Bhadra Month, BCE 3227 (Bhadra Krishn Ashtami, BCE 3227).

Arjuna was 6 month younger then God Sri Krishna.

Arjuna was born on Full Moon Day of Falgun Month,

Bheemasen was 1 year and 19 days elder than Arjuna.

Bheemasen was born in Posh Krishn Ekadashi,

Duryodhana was born next day of birth of Bheemasen.

Yuyutsu was born on same day when Duryodhana born. Yuyutsu was son of Sugadha & Dritarashtra.

When Yudhisthira was of age 16 King Pandu died and therefore Kunti came to Hastinapur with her all five sons.

All 05 Pandavas and 101 Kaurava wents to Guru Dron Aacharya to learn Archery.

Guru Dron refuse Karna so he went to God Parashurama to learn Archery.

Pandava and Kaurava lernt archery under Drona for 13 years.

Karna lernt archery under Parashurama for 08 years.

Arjuna defeated King Drupada (King of North Panchala) at age 27 years.

North Panchala King Drupada did Yagnya and from this Yagna first Dhristadhyummn And then Draupadi born young.

Karna married to Vrushali and they had 10 son.

Eldest son was Sudama and youngest son was Vrishketu.

After completing 05 years North Panchala King Drupada arranged Swayamvara of Draupadi.

Arjuna won Swayamvara And married to Draupadi.

All five brothers were in Brahmmin form so no one could identify them and all warrior tried to stop a Brahmmin who won Swayamvara.

Arjuna killed Karna’s 09 years old son Sudama and some soldiers.

Arjuna defeated Karna at that time.

Karna salute to Brahmmin (Arjuna) and told only Indra, Arjuna, and Drona can defeate him (Karna).

After 06 years Yuddhisthira declared King of Indraprashtha.

Yudhisthira ruled 32 years and 02 months in Indraprastha.

Now, game of dice Played two times at interval of four days and Yudhisthira lost his kingdom in this game.

Pandava and Draupadi went to forest for 13 years.

After returning from forest marriage of Abhimanyu and Uttara (daughter of Virata King) happened.

After Arjuna left, Dwarka was submerged in the sea. “The sea, which had been beating against the shores, suddenly broke the boundary that was imposed on it by nature. The sea rushed into the city. It coursed through the streets of the beautiful city. The sea covered up everything in the city. I saw the beautiful buildings becoming submerged one by one. In a matter of a few moments it was all over. The sea had now become as placid as a lake. There was no trace of the city. Dwaraka was just a name; just a memory.”

The incident is described in the Vishnu Purana in much the same manner:
“On the same day that Krishna departed from the earth the powerful dark-bodied Kali Age descended. The oceans rose and submerged the whole of Dwaraka.”
Dwaraka was submerged in the sea. The tsunami waves unleashed by these earthquakes might have been up to 12 meters tall. Dated the undersea finds to around the month of February 3082 BC.

Ardhamatra (अर्ध-मात्रा) [from “ardha” half + “matra” a metrical unit] Half a short syllable.

কালের সূক্ষ্মতম অবয়বের নাম ‘লব’। ১ লব = ০.১১ মি.লি. সেকেন্ড। পদ্মের একটি দল ভেদ করিতে যতটা সময় লাগে তাহার নাম ‘লব’।
৮বিট = ১বাইট। ১ বাইট ২৫৬ স্থরে তথ্য উপস্থাপন করতে পারে। ১ বাইট = ১ অক্ষর। ১০ বাইট = ১টি শব্দ। ১০০ বাইট = ১টি বাক্য।
স্থুল বর্ণের উচ্চারণ কালকে ‘মাত্রা’ বলা হয়। সৃষ্টির উৎসই ‘বিন্দু’, আবার, অসীমের প্রবেশ-দ্বার হইল ‘বিন্দু’। চরম আনন্দাবস্থায় চিত্ত বৃত্তি-শূণ্য হয়, ইহাই গুপ্ত রহস্য। পঞ্চ-শূণ্যের প্রথম-শূণ্য হইল ‘বিন্দু’। পূর্ণ বিন্দুর বেগের মাত্রা-ই হইল ‘অর্দ্ধ-মাত্রা’। তাহার পর, ‘অর্দ্ধ-চন্দ্র’ ইহার মাত্রা = ১/৪মাত্রা। ইহার পর, ‘নিরোধিকা’ ইহার মাত্রা = ১/৮মাত্রা। তাহার পর, ‘নাদ’ ইহার মাত্রা = ১/১৬মাত্রা। তাহার পর ‘নাদান্ত’ ইহার মাত্রা = ১/৩২মাত্রা।
ইহার পর, ‘শক্তি-স্থান’ ইহার মাত্রা = ১/৬৪মাত্রা। তাহার পর, ‘ব্যাপিনী’ ইহার মাত্রা = ১/১২৮মাত্রা। তাহার পর, ‘সমনা’, ইহার মাত্রা = ১/২৫৬মাত্রা। ইহার পর ‘উন্মনা’, ইহা মনের অতীত তাই উন্মনার উচ্চারণকাল নাই বলা যাইতে পারে।
শ্রীচক্রে আমরা দেখিতে পাই – চারিটি বৃহৎ ত্রিভূজ উর্দ্ধমুখী যাহাকে শিব-ত্রিভূজ বলা হয় ও পাঁচটি বৃহৎ ত্রিভূজ নিম্নমুখী যাহা শক্তি-ত্রিভূজ রূপে রহিয়া উভয় উভয়ের সহিত যৌগিক অবস্থা বা যুগ্মাবস্থা সৃষ্টি করিয়াছে। ৪টি উর্দ্ধমুখী ত্রিভূজের মোট ৪x৩ = ১২টি শূণ্য স্থানের বা দ্বাদশ রাশি নির্দ্দেশ করিতেছে, আর, ৫টি নিম্নমুখী ত্রিভূজ ৫x৩ = ১৫টি তিথি বা চন্দ্রকলা নির্দ্দেশ করিতেছে। আর, এই উভয়ের যোগফল ১২+১৫ = ২৭টি খণ্ডরূপ “নক্ষত্র” নির্দ্দেশ করিতেছে। পুনরায়, শিব ও শক্তি ত্রিভূজ গুলি একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করার বা যুক্ত হওয়ার কারণে, – সর্ব্বমোট ৪৩টি ত্রিভূজ সৃষ্টি করিতেছে।
দুইটি রেখার ছেদ-বিন্দু গুলিকে “সন্ধি” বলা হয়। শ্রীচক্রে এই রূপ ২৪টি সন্ধি আছে। ২৪ঘন্টায় ১অহোরাত্র। এই সন্ধিক্ষণ গুলি শিব-শক্তি যুগ্মাবস্থার নির্দ্দেশক। ইহাই আবার, মহাকালের ২৪টি বাহু।
তিনটি রেখার ছেদ-বিন্দু গুলিকে “মর্ম-স্থান” বলা হয়। শ্রীচক্রে এই রূপ ১৮টি মর্ম-স্থান বিন্দু আছে, যেখান থেকে ৬টি (রিপু) রেখা বেরিয়েছে। মর্ম-স্থান গুলি জীব দেহে (৯x২ = ১৮) অনুলোম-বিলোমে ১৮টি শক্তি-কেন্দ্রের নির্দেশক। সুতরাং, ১৮x৬ = ১০৮ সংখ্যা পাওয়া গেল, ইহাই জীবের বিভ্রম বা অজ্ঞতার সংখ্যা।
বর্ণমালার ৫৪ বর্ণ, অনুলোম বিলোমে ৫৪x২ = ১০৮ সংখ্যা। আরও বিশদ ভাবে বলিলে, – ‘অ’ হইতে ‘অঃ’ – পর্য্যন্ত ১৬টি স্বরবর্ণ, ‘ক’ হইতে ‘হ’ – পর্য্যন্ত ৩৩টি ব্যাঞ্জন বর্ণ ও ৫টি মেরু-বর্ণ (১৬+৩৩+৫) = ৫৪ বর্ণ X ২ (অনুলোম ও বিলোমে) = ১০৮ সংখ্যা। ইহাই বীজ-মন্ত্র জপের বা মালা জপের সংখ্যা। প্রাচীন ভারতে সত্যদ্রষ্টা ঋষিগণ আত্ম-তত্ত্ব উপলব্ধি করিয়া সাধণপন্থার সূত্র নির্নয় করিয়াছিলেন। কিন্তু, কালক্রমে আজ তা লুপ্তপ্রায় হইয়া গিয়াছে। কিছু কিছু সাধণের প্রণালী ‘বীজমন্ত্র’ – রূপে গুপ্ত ভাবে রক্ষা করা রহিয়াছে।

‘কালচক্র’ “Wheel of Time”

“चतुररत्रिक कुर्य्दन्तर्मध्ये वहि क्रम्त्। दव चतुरस्तद्दिककेअग्वक्रसिद्धये॥८२॥
दन् प्रत्येक चतुररसम्गमेउ मध्ये च। भिजिद्युक्त्तस्त्र् स्थ्प्य् स्यु सप्त सप्त गअन्थ्॥८३॥
दग्र्द्मध्म निर्गत्यततोन्तिकस्थदएन। एव पुन प्रवेओ निर्गमन प्रोक्त्तवच्च गअनमिह॥”८४।।

কালচক্র বিচার পদ্ধতি প্রাচীন আর্য্যসভ্যতা ও তিব্বতীয় সভ্যতার প্রত্যক্ষ নিদর্শন। গৌতমবুদ্ধ তাঁর জীবদ্দশার শেষ ভাগে “কালচক্র” সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং, এই জ্ঞান তিনি রাজা সুচন্দ্রকে দিয়েছিলেন।
‘কালচক্র’ হলো জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিস্তৃত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে নক্ষত্রগুলির ব্যবহারের গভীরতা দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। নক্ষত্রের ব্যবহারের ভিত্তি ও শ্রেণিবিন্যাসের পূর্ণ উপলব্ধির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

‘কালচক্র’ বৌদ্ধ তন্ত্র জ্যোতিষের একটি বিস্তৃত পদ্ধতি। সাধারণ ব্যবহারগুলির প্রসন্ন মার্গ এবং জাতক পারিজাত গ্রন্থের মতো সাধারণ গ্রন্থগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি একটি সম্পূর্ণ তন্ত্র গ্রন্থ, যার নাম “কালচক্র তন্ত্র”। এই তন্ত্রটি পাঁচটি বই নিয়ে গঠিত। প্রথম বইটি বাইরের কালচক্রের উপর এবং এতে জ্যোতিষের প্রচুর তথ্য রয়েছে। কালচক্র অর্থে সময়ের চক্র, এটি আমাদের নিজের মধ্যের প্রায় একটি সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার। আক্ষরিক অর্থে ‘কাল’ মানে ‘টাইম / সময়’ এবং ‘চক্র’ মানে ‘হুইল / চাকা’। দ্বিতীয় অধ্যায়টি অন্তঃস্থ কালচক্রের সাথে সম্পর্কিত এবং জ্যোতিষের তুলনায় নাড়ী (শক্তি চ্যানেল) এবং প্রাণের গতিবিধি সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তৃতীয় গ্রন্থটি কালচক্র মার্গে তান্ত্রিক দীক্ষা নিয়ে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রন্থে সাধনা ও ধ্যানের সাথে জড়িত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এই কালচক্র তন্ত্রটি কয়েকশ বছর আগে তিব্বতে অনুবাদ করা হয়েছিল এবং তিব্বতীয় পাঠ্যের কিছু অংশ তিব্বতীয় বৌদ্ধ ভাষ্য দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। মূল সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে এখনও কোনও সরল অনুবাদ হয়নি।

কালচক্রের মধ্যে ৭২২ উপাস্য দেবতা রয়েছে (৭২০ প্লাস শিব এবং দুর্গা)। এগুলি হঠযোগ গ্রন্থে উল্লিখিত ‘৭২০০০’ নাড়ীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত ও পাশাপাশি জ্যোতিষ শাস্ত্রে “ডি60” -এর ৭২০ টি ষষ্ঠীয়াংশ পরাশর মতানুসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্গ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। পদ্মগুলিতে ৭৮ টি দেবদেবীর দ্বারাই দু’বার গণনা করা হয় (৭৮ x ২ = ১৫৬)।৷ — ক্রমশ

ছায়াপথ (Galaxy):

ছায়াপথ মহাকর্ষীয় শক্তি দ্বারা আবদ্ধ একটি অতি বৃহৎ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা যা তারা, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ধূলিকণা, প্লাজমা এবং প্রচুর পরিমাণে অদৃশ্য বস্তু দ্বারা গঠিত।
ছায়াপথকে হিন্দুশাস্ত্রে মন্দাকিনী, সরিৎগঙ্গা, আকাশগঙ্গা, অনন্তশায়ী নারায়ণ, বিরাটপুরুষ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হইয়াছে। এই ছায়াপথটি রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিস্তৃত হালকা সাদা মেঘের মত দেখায়।

আমাদের এই সৌরজগত যে ছায়াপথে অবস্থিত তার গ্রিক নাম দেয়া হয়েছিল kyklos galaktikos বা “দুগ্ধশুভ্র বৃত্তপথ” (Milky way circle)। পরবর্তীকালে এই নামটিকেই ছায়াপথের সাধারণ নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

ঋষিগণের কল্পনায় আকাশপথে বালক ‘ধ্রুব’ – ভক্তিভরে যে স্থানে সপ্তর্ষি পরিবেষ্টিত হইয়া তপস্যায় মগ্ন ছিলেন, সেই উত্তরাকাশের ধ্রুবতারার ২৩.৫ – ২৫.৫ ডিগ্রী দূর দিয়া ঘুরিয়া দক্ষিনাকাশে অসীমে চলিয়া গিয়াছে এই দুগ্ধশুভ্র ছায়াপথ ।
ইংরেজি পোল স্টার (Pole star)। পৃথিবীর উত্তর মেরুর অক্ষ বরাবর দৃশ্যমান তারা ধ্রুবতারা নামে পরিচিত। এই তারাটি পৃথিবীর অক্ষের উপর ঘূর্ণনের সাথে প্রায় সামাঞ্জস্যপূর্ণভাবে আবর্তিত হয়। প্রাচীন কালে দিক নির্ণয় যন্ত্র আবিস্কারের পূর্বে সমূদ্রে জাহাজ চালাবার সময় নাবিকরা এই তারার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতো। সপ্তর্ষী মন্ডল এর প্রথম দুটি তারা, পুলহ এবং ক্রতু-কে সরলরেখায় বাড়ালে সেটি এ তারাটিকে নির্দেশ করে। এটি লঘু-সপ্তর্ষী মন্ডলে দেখা যায়।
রাত বাড়ার সাথে সাথে আকাশের দৃশ্যমান সকল তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে । শুধুমাত্র ধ্রুবতারাই মোটামুটি একই স্থানে অবস্থান (দৃশ্যত) থাকে। এটি আকাশের একমাত্র তারা, যেটিকে এ অঞ্চল হতে বছরের যে কোন সময়েই ঠিক এক জায়গায় দেখা যায়।
‘কালপুরুষ (Orion নীহারিকা)’ আকাশের সবচেয়ে পরিচিত তারামন্ডল হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই মন্ডলটি খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। শিকারী নামে সুপরিচিত এই মন্ডলের উল্লেখযোগ্য তারাগুলো মহাকাশের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করায় পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে একে দেখা যায়। উত্তর গোলার্ধে শরতের শেষ সময় হতে বসন্তের প্রাথমিক সময় পর্যন্ত কালপুরুষ মন্ডলটি দেখা যায়।
কালপুরুষ মন্ডলে প্রচুর উজ্জ্বল তারা এবং গভীর আকাশের বস্তু রয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য তারাসমূহের নাম উল্লেখিত হল:
• ল্যাম্বডা অরিয়নিস (Meissa) হল কালপুরুষের মাথা। অবশ্য আর্দ্রার উত্তরে বেশ কয়েকটি তারা দেখা যায় যার সবকটিই মাথা গঠন করে। বাংলায় এদের একত্রে মৃগশিরা বলা হয়।
• জেটা অরিয়নিস (Alnitak – ঊষা), এপসাইলন অরিয়নিস (Alnilam – অনিরুদ্ধ) এবং ডেল্টা অরিয়নিস (Mintaka – চিত্রলেখ) নামক তারা তিনটি পূর্ব আকাশে লুব্ধকের সামান্য উত্তর-পশ্চিমে থাকে এবং এই যুক্ততারাটি (Asterism) কালপুরুষের কোমরবন্ধ গঠন করে। এই তারাসমষ্টিটি এক সরলরেখায় উত্তর-পশ্চিম থেকে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে মুখ করে অবস্থান করে। সর্ব উত্তরে চিত্রলেখ এবং সর্বদক্ষিণে ঊষা অবস্থান করে।
• আলফা অরিয়নিস বা “আর্দ্রা” তারাটি এর ডান কাঁধে অবস্থিত। এটি লাল বর্ণের তারা যার ব্যস শুক্র গ্রহের চেয়ে বেশি। কোমরবন্ধের তারাসমষ্টিটির উত্তরে দুইটি তারা আছে এবং এদুটির মধ্যে পূর্বদিকের তারাটিই হল “আর্দ্রা”। এটি কালপুরুষ মন্ডলের প্রথম তারা হলেও বাণরাজা (Rigel) অপেক্ষা মৃদু।
• গামা অরিয়নিস (Bellatrix – কার্তিকেয়) তারাটি এর বাম কাঁধে অবস্থিত। আর্দ্রার পশ্চিম দিকে তাকালে অতি সহজেই তারাটি চোখে পড়ে। এর অপর নাম হচ্ছে নারী যোদ্ধা বা Warrior woman।
• কার্তিকেয়’র পশ্চিমে ছোট ছোট কয়েকটি তারা ধনুকের আকৃতি ধারণ করে আছে দেখা যায়। এগুলো কালপুরুষের হাতের দন্ডের আকার দেয়।
• কাপ্পা অরিয়নিস (Saiph – কার্তবীর্য) ডান পায়ের হাটুর তারা। কোমরবন্ধের নিচে পূর্বদিকে এর অবস্থান।
• বিটা অরিয়নিস (Rigel – বাণরাজা) বাঁ পায়ের তারা যা কোমরবন্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এটি একটি অতিদানব নীলাভ-সাদা তারা। আকাশের উজ্জ্বলতম তারাগুলোর অন্যতম।
• আইওটা অরিয়নিস (Hatsya) তারাটি কালপুরুষের তরবারির ডগায় অবস্থিত।
• ইটা অরিয়নিস তারাটি ডেল্টা অরিয়নিস এবং বাণরাজা তারাদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
‘কালপুরুষ নীহারিকা’ (যা মিজার ৪২, এম ৪২ এবং এনজিসি ১৯৭৬ নামেও পরিচিত।) এটি একটি বিকীর্ণ নীহারিকা যা ছায়াপথের দক্ষিনে অবস্হিত এবং এটি একটি অন্যতম উজ্জ্বল নীহারিকা যা রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা যায়। এম ৪২ এর অবস্হান ১,৩৪৪ ± ২০ আলোক বর্ষ এবং এটি পৃথবীর নিকটবর্তী বড় তারা গঠন অন্চলে অবস্হিত। কালপুরুষ নীহারিকাটি অনুমান করা হয় ২৪ আলোক বর্ষ জুড়ে। সূর্যের তুলনায় এটার ভর প্রায় ২০০০ বার। পুরাতন গ্রন্থে অনেক বার কালপুরুষ নীহারিকাকে ‘গ্রেট নীহারিকা’ বা’ ‘গ্রেট কালপুরুষ নীহারিকা’ বলা হয়েছে। কালপুরুষ নীহারিকাটি রাতের আকাশে সর্বোচ্চ যাচাইকৃত এবং ছবি ধারনকৃত এবং সর্বাধিক অধ্যায়িত ‘স্বর্গীয় বৈশিষ্ট্যময় নীহারিকা’।
কালপুরুষ নীহারিকা হল একটি নাক্ষত্রিক নার্সারি যেখানে নতুন তারার জন্ম হচ্ছে। কালপুরুষ নীহারিকা মধ্যে ‘Hubble Space Telescope’ – এর সাহায্যে 700 তারা ও সৌরজগৎ চারপাশে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মীয়মান রূপে অবলোকন করা গিয়েছে।

কালচক্র তন্ত্র(Kalachakra Tantra):

বজ্রযানেরই আরেক সাধনপন্থা হিসেবে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের আর একটি শাখা গড়ে ওঠে যা কালচক্রযান নামে পরিচিত। এই সম্প্রদায়ের সর্বোশ্রেষ্ঠ দেবতা হলেন “শ্রীকালচক্র”। এখানে ‘কাল’ শব্দটির অর্থ ‘প্রজ্ঞা’ বা ‘শূন্য অস্তিত্ব’ এবং ‘চক্র’ অর্থ হলো ‘জাগতিক পদ্ধতি’ বা উপায়। অতএব, কালচক্র হলো “প্রজ্ঞা ও উপায়ের অদ্বয়াবস্থা” এবং সেই সঙ্গে বোধিচিত্ত এবং বজ্রসত্ত্ব তথা আদিবুদ্ধের সঙ্গে এক ও অভিন্ন।
‘কালচক্রযানে অনেক ভয়ঙ্কর ধরনের দেবদেবী বর্তমান যাঁদের মন্ত্র, মণ্ডল ও বলিদানের দ্বারা তৃপ্ত করতে হয়। প্রজ্ঞা ছাড়াও ‘কাল’ সময়ের দ্যোতক যার বিভাগ প্রাণবায়ুর দ্বারা সম্ভব হয় এবং যা স্নায়ুচক্রের মধ্যে বিস্তৃত থাকে। যোগাভ্যাসের দ্বারা এই প্রাণবায়ুকে সংযত করতে পারলে মানুষও সময়ের চক্রকে এড়াতে পারবে, ফলে তার সকল দুঃখের অবসান ঘটবে। কালচক্রযান বঙ্গদেশ, মগধ, কাশ্মীর ও নেপালে।’ ‘কালচক্রযানীদের মতে শূন্যতা ও কালচক্র এক এবং অভিন্ন। ভূত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ লইয়া অবিরাম প্রবহমান কালস্রোত চক্রাকারে ঘূর্ণ্যমান। এই কালচক্র সর্বদর্শী, সর্বজ্ঞ; এই কালচক্রই আদিবুদ্ধ ও সকল বুদ্ধের জন্মদাতা। কালচক্র প্রজ্ঞার সঙ্গে মিলিত হইয়া এই জন্মদান কার্যটি সম্পন্ন করেন। কালচক্রযানী-দের উদ্দেশ্যই হইতেছে কালচক্রের এই অবিরাম গতিকে নিরস্ত করা অর্থাৎ নিজেদের সেই কাল-প্রভাবের ঊর্ধ্বে উন্নীত করা। কিন্তু, কালকে নিরস্ত করা যায় কিরূপে? কালের গতির লক্ষণ হইতেছে একের পর এক কার্যের মালা; কার্যপরম্পরা অর্থাৎ গতির বিবর্তন দেখিয়াই আমরা কালের ধারণায় উপনীত হই। ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই কার্যপরম্পরা মূলত প্রাণক্রিয়ার পরম্পরা ছাড়া আর কিছুই নয়। কাজেই, প্রাণক্রিয়াকে নিরুদ্ধ করিতে পারিলেই কালকে নিরস্ত করা যায়। কালচক্রযানীরা বলেন, যোগসাধনার বলে দেহাভ্যন্তরস্থ নাড়ী ও নাড়ীকেন্দ্রগুলিকে আয়ত্ত করিতে পারিলেই পঞ্চবায়ুকে আয়ত্ত করিতে পারিলেই প্রাণক্রিয়া নিরুদ্ধ করা যায় এবং তাহাতেই কাল নিরস্ত হয়। ‘কাল’ নিরস্ত করাই যেখানে উদ্দেশ্য, সেখানে কালচক্রযানীদের সাধন-পদ্ধতিতে তিথি, বার, নক্ষত্র, রাশি, যোগ প্রভৃতি বা পঞ্চাঙ্গ একটা বড় স্থান অধিকার করিয়া থাকিবে ইহা কিছু বিচিত্র নয় ! এই জন্যই কালচক্রযানীদের মধ্যে গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার প্রচলন ছিল খুব বেশি। তিব্বতী ঐতিহ্যানুসারে কালচক্রযানের উদ্ভব ভারতবর্ষের বাহিরে, ‘সাম্ভলা’ নামক কোনো স্থানে। পাল-পর্বের কোনও সময়ে তাহা বাঙ্গলাদেশে প্রবেশ লাভ করে।৷ — পুনঃ প্রচারে – তুর্যানন্দনাথ।