Blog

Welcome to our new blog

  • Watch “Sanatan Dharma, Gaudiya Vaishnavism, Krishna Consciousness….” on YouTube
  • মার্কণ্ডেয় পুরাণ :
    ঋষিরুবাচ। ৬৩নিত্যৈব সা জগন্মূর্তিস্তয়া সর্বমিদং ততম্ । ৬৪তথাপি তৎ সমুৎপত্তির্বহুধা শ্রূয়তাং মম।দেবানাং কার্যসিদ্ধ্যর্থমাবির্ভবতি সা যদা। ৬৫উৎপন্নেতি তদা লোকে সা নিত্যাপ্যভিধীয়তে।।যোগনিদ্রাং যদা বিষ্ণুর্জগত্যেকার্ণবীকৃতে। ৬৬আস্তীর্য শেষমভজং কল্পান্তে ভগবান্ প্রভুঃ।।তদা দ্বাবসুরৌ ঘোরৌ বিখ্যাতৌ মধুকৈটভৌ। ৬৭বিষ্ণুকর্ণমলোম্ভূতৌ হন্তুং ব্রহ্মাণমুদ্যতৌ।।স নাভিকমলে বিষ্ণোঃ স্থিতো ব্রহ্মা প্রজাপতিঃ। ৬৮দৃষ্ট্বা তাবসুরৌ চোগ্রৌ প্রসুপ্তঞ্চ জনার্দনম্ ।।তুষ্টাব যোগনিদ্রাং তামেকাগ্রহৃদয়স্থিতঃ। ৬৯বিবোধনার্থায় হরের্হরিনেত্রকৃতালয়াম্ ।।(ওঁ ঐঁ) বিশ্বেশ্বরীং জগদ্ধাত্রীং স্থিতিসংহারকারিণীম্ ।।Continue reading “মার্কণ্ডেয় পুরাণ :”
  • Gemology
    Almandine Uses and Purposes:- Almandine is a strong regenerative healing crystal bringing strength and stamina, and aids circulation and all blood related issues. It is an excellent crystal for fertility, sexual potency and libido. Emotionally, Almandine cultivates a sense of security, safety and abundance. It is associated with the First Chakra and has the healingContinue reading “Gemology”
  • ‘Todala Tantram’ book was published (‘তোড়ল তন্ত্রম্’ বই প্রকাশিত হলো):
  • জগদ্ধাত্রী ধ্যান মন্ত্র :-
    “সিংহঙ্কন্ধাধি-সংরূঢ়াং নানালঙ্কার-ভূষিতং।চতুর্ভুজাং মহাদেবীং নাগ-যজ্ঞোপবীতিনীম॥শঙ্খ শার্ঙ্গ-সমাযুক্ত-বাম-পাণিদ্বয়ান্বিতাং।চক্ৰঞ্চ পঞ্চবাণাংশ্চ ধারয়ন্তীঞ্চ দক্ষিণে॥রক্তবস্ত্রপরীধানাং বালার্ক সদৃশীতনুং।নারদাদ্যৈমুনিগণৈঃ সেবিতাং ভবসুন্দরীম॥ত্ৰিবলীবলিয়োপেত-নাভিনাল-মৃণালিনীং।রত্নদ্বীপে মহাদ্বীপে সিংহাসন-সমন্বিতে॥প্ৰফুল্ল-কমলারূঢ়াং ধ্যায়েত্তাং ভবগেহিনীম্‌।(ওঁ হ্রীঁ) দূং জগদ্ধাতৃদুর্গায়ৈ নমঃ॥” তুমি সিংহের স্কন্ধে আরূঢ়া, নানা অলঙ্কারে অলঙ্কৃতা, চতুর্ভূজা, মহাদেবী, এবং তুমি সর্পকে যজ্ঞোপবীত রূপে ধারণ করে আছ। তোমার বামহস্তদ্বয়ে শঙ্খ ও ধনু, দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে চক্র ও পঞ্চবাণ। তুমি রক্ত বস্ত্ৰ পরিধান করে আছ, তোমার শরীরContinue reading “জগদ্ধাত্রী ধ্যান মন্ত্র :-“

শ্রীমদ্ বাল্মীকি রামায়ণ

(যোগতত্ত্ব ও ব্রহ্মবিদ্যার আলোকে)

বালকাণ্ড – প্রথম সর্গ:-

পঞ্চদশ (১৫তম) শ্লোক

“सर्वशास्त्रार्थतत्त्वज्ञः स्मृतिमान् प्रतिभानवान् । सर्वलोकप्रियः साधुरदीनात्मा विचक्षणः” ॥ १।१।१५ ॥

পাঠ-সমালোচনা (Textual Note):
এই শ্লোকে উল্লেখযোগ্য পাঠভেদ প্রায় নেই। অধিকাংশ প্রাচীন ও আধুনিক সংস্করণে একই পাঠ গৃহীত হয়েছে।

পদচ্ছেদ:
सर्व-शास्त्र-अर्थ-तत्त्व-ज्ञः।स्मृतिमान् । प्रतिभानवान् । सर्व-लोक-प्रियः । साधुः ।अदीन-आत्मा । विचक्षणः ।

অন্বয়:
सः सर्वशास्त्रार्थतत्त्वज्ञः, स्मृतिमान्, प्रतिभानवान्, सर्वलोकप्रियः, साधुः, अदीनात्मा, विचक्षणः (अस्ति)।

শব্দার্থ:

  • सर्वशास्त्रार्थतत्त्वज्ञः — সকল শাস্ত্রের প্রকৃত তত্ত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন।
  • स्मृतिमान् — প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন।
  • प्रतिभानवान् — উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন, তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞাবান।
  • सर्वलोकप्रियः — সকলের প্রিয়।
  • साधुः — সজ্জন, কল্যাণপ্রবণ, সদাচারসম্পন্ন।
  • अदीनात्मा — বিপদে অবসন্ন হন না; অন্তরে অবদমিত নন।
  • विचक्षणः — বিচক্ষণ, সুদূরদর্শী ও বিচারক্ষম।

বাংলা অনুবাদ:
তিনি সকল শাস্ত্রের প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞ, অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী, উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন, সর্বজনপ্রিয়, সজ্জন, বিপদে অবিচল এবং বিচক্ষণ।

নিরুক্ত (শব্দের ব্যুৎপত্তি):
प्रतिभा (প্রতিভা),
प्रति + भा (ভা = জ্বলা, আলোকিত হওয়া)।
অর্থাৎ, যে বুদ্ধি মুহূর্তের মধ্যে যথার্থ উপলব্ধির আলো জ্বালিয়ে দেয়, তাকে প্রতিভা বলে।

विचक्षण,
“वि + चक्ष्” ধাতু থেকে উৎপন্ন।
যিনি বিষয়কে নানা দিক থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিচার করতে পারেন, তিনিই বিচক্ষণ।

প্রসঙ্গ:
এখানে দেবর্ষি নারদ শ্রীরামের বুদ্ধিবৃত্তি ও চরিত্রের পরিপক্বতা বর্ণনা করছেন।

তিনি কেবল শাস্ত্রজ্ঞ নন; শাস্ত্রের তত্ত্বজ্ঞ।
তিনি কেবল স্মৃতিশালী নন; সেই জ্ঞানকে যথাস্থানে প্রয়োগ করতেও সক্ষম।

প্রাচীন ভাষ্যকারদের মতামত (তুলনামূলক সারসংক্ষেপ):

প্রাচীন ভাষ্যকারগণ ব্যাখ্যা করেছেন,—

  • সর্বশাস্ত্রার্থতত্ত্বজ্ঞঃ — শাস্ত্রের শব্দ নয়, অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করেন।
  • স্মৃতিমান্ — শ্রুত জ্ঞান অবিকৃতভাবে ধারণ ও প্রয়োজনে স্মরণ করতে সক্ষম।
  • প্রতিভানবান্ — জটিল পরিস্থিতিতেও যথাযথ উত্তর ও সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম।
  • অদীনাত্মা — দুঃখ, ভয় বা প্রতিকূলতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন না।
  • বিচক্ষণঃ — দেশ, কাল ও পাত্র বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বর্তমান ভাষ্যকার (তুর্য্যানন্দনাথ) -এর বিশ্লেষণ
✧ মৌলিক ব্যাখ্যা:

এই শ্লোকের গুণগুলিকে একটি ক্রমে সাজালে দেখা যায়,—
জ্ঞান → স্মৃতি → প্রতিভা → জনপ্রিয়তা → সাধুতা → মানসিক দৃঢ়তা → প্রজ্ঞাপূর্ণ বিচার।

ঋষি বাল্মীকি দেখাতে চেয়েছেন যে, প্রকৃত নেতৃত্বের ভিত্তি কেবল জ্ঞান নয়; চরিত্র, স্থিতি ও বিচক্ষণতার সমন্বয়।
সকলের প্রিয় হওয়া এবং সকলকে খুশি করা—এই দুটি এক নয়। রাম সর্বজনপ্রিয়, কারণ তিনি সত্য ও ধর্মে অবিচল; আপস করে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়।

দার্শনিক আলোচনা:
“শাস্ত্রজ্ঞ” এবং “তত্ত্বজ্ঞ”-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি পাঠ জানেন।
তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তি সেই পাঠের অন্তর্নিহিত সত্যকে জীবনে ধারণ করেন।

— শ্রী রাম দ্বিতীয় শ্রেণির আদর্শ যুক্ত।

যোগতত্ত্বের আলোকে ✧ মৌলিক ব্যাখ্যা:
যোগসাধনায় স্মৃতি (स्मृति) একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। পতঞ্জলির যোগসূত্রে স্মৃতিকে চিত্তবৃত্তির একটি রূপ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে, এবং পরিশুদ্ধ স্মৃতি সাধনায় সহায়ক।
প্রতিভা যোগসাধকের অন্তর্দৃষ্টিরও পরিচায়ক—যেখানে সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তি থেকে নয়, নির্মল চিত্ত থেকে উদ্ভাসিত হয়।
অদীনাত্মা সেই যোগীর লক্ষণ, যিনি সুখ-দুঃখে সহজে বিচলিত হন না।

ব্রহ্মবিদ্যার আলোকে:
ব্রহ্মবিদ্যায় প্রকৃত প্রজ্ঞা তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়ায়,—

  • শ্রবণ,
  • মনন,
  • নিদিধ্যাসন।

— এই তিনের ফলেই শাস্ত্রের অর্থ থেকে তত্ত্বে উত্তরণ ঘটে। রামের ক্ষেত্রে নারদ এই পরিপক্ব জ্ঞানকেই নির্দেশ করছেন।

ক্রিয়াযোগ-সাধকের উপলব্ধি:
আজকের আত্মসমীক্ষা—

  • আমি কি কেবল শাস্ত্র পড়ছি, নাকি তার তত্ত্ব উপলব্ধির চেষ্টা করছি?
  • বিপদের সময় আমার মন কি ভেঙে পড়ে, নাকি স্থির থাকে?
  • আমার সিদ্ধান্ত কি আবেগনির্ভর, নাকি বিচক্ষণ?
  • আমার সাধনা কি আমাকে আরও বিনয়ী ও সর্বজনপ্রিয় করে তুলছে?

সর্গ-সার (এই শ্লোকের প্রেক্ষিতে):
এই শ্লোক শ্রীরামের জ্ঞান, স্মৃতি, প্রজ্ঞা, সদাচার এবং মানসিক স্থৈর্য—এই পাঁচ স্তম্ভকে প্রতিষ্ঠা করে। একজন আদর্শ শাসক ও সাধকের মধ্যে এই গুণগুলির সমন্বয়ই তাঁকে যুগে যুগে অনুকরণীয় করে তোলে।

শাস্ত্র-পরিশিষ্ট:
মুণ্ডক উপনিষদ (১.১.৫),-

परा या तदक्षरमधिगम्यते।

বাংলা অর্থ :
“পরা বিদ্যা সেই, যার দ্বারা অক্ষর ব্রহ্মকে জানা যায়।”

টীকা :
রামের ‘सर्वशास्त्रार्थतत्त्वज्ञः’ বিশেষণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শাস্ত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল পাণ্ডিত্য নয়, তত্ত্বের উপলব্ধি। শাস্ত্র তখনই সফল, যখন তা জীবনকে সত্য, ধর্ম ও আত্মজ্ঞানমুখী করে তোলে।

— অনুবাদ ও টীকা – তুর্য্যানন্দনাথ।

All Rights reserved © Bengal Institute of Oriental Studies.