মার্কণ্ডেয় পুরাণ :

ঋষিরুবাচ। ৬৩
নিত্যৈব সা জগন্মূর্তিস্তয়া সর্বমিদং ততম্ । ৬৪
তথাপি তৎ সমুৎপত্তির্বহুধা শ্রূয়তাং মম।
দেবানাং কার্যসিদ্ধ্যর্থমাবির্ভবতি সা যদা। ৬৫
উৎপন্নেতি তদা লোকে সা নিত্যাপ্যভিধীয়তে।।
যোগনিদ্রাং যদা বিষ্ণুর্জগত্যেকার্ণবীকৃতে। ৬৬
আস্তীর্য শেষমভজং কল্পান্তে ভগবান্ প্রভুঃ।।
তদা দ্বাবসুরৌ ঘোরৌ বিখ্যাতৌ মধুকৈটভৌ। ৬৭
বিষ্ণুকর্ণমলোম্ভূতৌ হন্তুং ব্রহ্মাণমুদ্যতৌ।।
স নাভিকমলে বিষ্ণোঃ স্থিতো ব্রহ্মা প্রজাপতিঃ। ৬৮
দৃষ্ট্বা তাবসুরৌ চোগ্রৌ প্রসুপ্তঞ্চ জনার্দনম্ ।।
তুষ্টাব যোগনিদ্রাং তামেকাগ্রহৃদয়স্থিতঃ। ৬৯
বিবোধনার্থায় হরের্হরিনেত্রকৃতালয়াম্ ।।
(ওঁ ঐঁ) বিশ্বেশ্বরীং জগদ্ধাত্রীং স্থিতিসংহারকারিণীম্ ।। ৭০
নিদ্রাং ভগবতীং বিষ্ণোরতুলাং তেজসঃ প্রভুঃ। ৭১

ব্রহ্মোবাচ। ৭২
ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্কারঃ স্বরাত্মিকা। ৭৩
সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিকা স্থিতা।।
অর্ধমাত্রা স্থিতা নিত্যা যানুচ্চার্যা বিশেষতঃ। ৭৪
ত্বমেব সা ত্বং সাবিত্রী ত্বং দেবজননী পরা।।
ত্বয়ৈব ধার্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎ সৃজ্যতে জগৎ। ৭৫
ত্বয়ৈতৎ পাল্যতে দেবি ত্বমৎস্যন্তে চ সর্বদা।।
বিসৃষ্টৌ সৃষ্টিরূপা ত্বং স্থিতিরূপা চ পালনে। ৭৬
তথা সংহৃতিরূপান্তে জগতোহস্য জগন্ময়ে।।
মহাবিদ্যা মহামায়া মহামেধা মহাস্মৃতিঃ। ৭৭
মহামোহা চ ভবতী মহাদেবী মহাসুরী।।
প্রকৃতিস্ত্বং হি সর্বস্য গুণত্রয়বিভাবিনী। ৭৮
কালরাত্রির্মহারাত্রির্মোহরাত্রিশ্চ দারুণা।।
ত্বং শ্রীস্ত্বমীশ্বরী ত্বং হ্রীস্ত্বং বুদ্ধির্বোধলক্ষণা। ৭৯
লজ্জা পুষ্টিস্তথা তুষ্টিস্ত্বং শান্তিঃ ক্ষান্তিরেব চ।।
খড়্গিনী শূলিনী ঘোরা গদিনী চক্রিণী তথা। ৮০
শঙ্খিনী চাপিনী বাণভুসণ্ডীপরিঘায়ুধা।।
সৌম্যাসৌম্যতরাশেষসৌম্যেভ্যস্ত্বতিসুন্দরী। ৮১
পরা পরাণাং পরমা ত্বমেব পরমেশ্বরী।।
যচ্চ কিঞ্চিৎ ক্বচিদ্বস্তু সদসদ্ বাখিলাত্মিকে। ৮২
তস্য সর্বস্য যা শক্তিঃ সা ত্বং কিং স্তূয়সে ময়া।।

অর্থাৎ :
মেধা ঋষি বলিলেন– সেই মহামায়া নিত্যা (জন্মমৃত্যুরহিতা); আবার এই জগৎপ্রপঞ্চই তাঁহার বিরাট মূর্তি। তিনি সর্বব্যাপী এবং নিত্যা হইলেও তাঁহার বহুপ্রকার আবির্ভাবের বৃত্তান্ত আমার নিকট শ্রবণ করুন।-(৬৩-৬৫)।। যখন তিনি দেবগণের কার্যসিদ্ধির নিমিত্ত আবির্ভূতা হন, স্বরূপতঃ নিত্যা হইলেও তিনি তখন পৃথিবীতে উৎপন্না, এইরূপ অভিহিতা হন।-(৬৫-৬৬)।। প্রলয়কালে (ব্রহ্মার দিবাবসানে) পৃথিবী এক বিরাট কারণ-সমুদ্রে পরিণত হইলে যখন ভগবান প্রভু বিষ্ণু অনন্তনাগকে শয্যারূপে বিস্তৃত করিয়া যোগনিদ্রায় নিমগ্ন হইলেন-(৬৬-৬৭) তখন মধু ও কৈটভ নামে প্রসিদ্ধ ভয়ঙ্কর অসুরদ্বয় বিষ্ণুর কর্ণমল হইতে উৎপন্ন হইয়া ব্রহ্মাকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল।-(৬৭-৬৮)।। বিষ্ণুর নাভি-পদ্মে অবস্থিত সেই প্রজাপতি প্রভু ব্রহ্মা বিষ্ণুকে যোগনিদ্রামগ্ন এবং উগ্র অসুরদ্বয়কে সমীপে দেখিয়া বিষ্ণুর জাগরণের নিমিত্ত তেজঃস্বরূপ বিষ্ণুর নয়নাশ্রিতা অতুলা তামসী-শক্তি বিশ্বেশ্বরী, জগদ্ধাত্রী, স্থিতি-সংহার-কারিণী, ভগবতী সেই যোগনিদ্রার স্তব করিতে লাগিলেন।-(৬৮-৭১)


ব্রহ্মা বলিলেন– নিত্যে, অক্ষরে, আপনিই দেবোদ্দেশে হবিদানের স্বাহামন্ত্ররূপা। আপনিই পিতৃলোকের উদ্দেশে দ্রব্যদানের স্বধামন্ত্ররূপা। আপনিই দেবাহ্বানের বষট্মন্ত্র-স্বরূপা ও উদাত্তাদিস্বররূপা। আপনিই অমৃতরূপা এবং অ-উ-ম ত্রিবিধ মাত্রারূপে অবস্থিতা প্রণবরূপা।-(৭২-৭৪)।। বিশেষরূপে যাহা অনুচ্চার্যা নির্গুণা বা তুরীয়া, তাহাও আপনি। হে দেবি, আপনি গায়ত্রীমন্ত্ররূপা এবং আপনি পরিণামহীনা শ্রেষ্ঠা শক্তি ও দেবগণের আদি মাতা।-(৭৪-৭৫)।। হে দেবি, আপনিই জগৎ-ধারণ করিয়া রহিয়াছেন। আপনি এই জগৎ সৃষ্টি করেন, আপনিই ইহা পালন করেন এবং সর্বদা প্রলয়কালে আপনি ইহা সংহার করেন।-(৭৫-৭৬)।। হে জগৎস্বরূপা, আপনি এই জগতের সৃষ্টিকালে সৃষ্টিশক্তিরূপা, পালনকালে স্থিতিশক্তিরূপা এবং প্রলয়কালে সংহারশক্তিরূপা।-(৭৬-৭৭)।। আপনি মহাবাক্যলক্ষণা ব্রহ্মবিদ্যা ও সংসৃতিকর্ত্রী মহামায়া। আপনি মহতী মেধা (ধারণা), মহতী স্মৃতি ও মহামোহ। আপনি মহতী দেবশক্তি এবং মহতী অসুরশক্তি।-(৭৭-৭৮)।। আপনিই সর্বভূতের প্রকৃতি ও ত্রিগুণের পরিণাম-বিধায়িনী। আপনি কালরাত্রি (যাহাতে ব্রহ্মার লয় হয়) ও মহারাত্রি (যাহাতে জগতের লয় হয়)। আপনি দুষ্পরিহারা মহামোহনিশা বা মানুষী রাত্রি (যাহাতে জীবের নিত্য লয় হয়)।-(৭৮-৭৯)।। আপনি লক্ষ্মী, আপনি ঈশ্বরশক্তি, আপনি হ্রী, আপনি নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি। আপনি লজ্জা, পুষ্টি এবং তুষ্টি। আপনিই শান্তি ও ক্ষান্তি।-(৭৯-৮০)।। আপনি খড়্গধারিণী, ত্রিশূলধারিণী, (এক হস্ত নরশিরধারণে) ভয়ঙ্করী, গদাধারিণী, চক্রধারিণী, শঙ্খধারিণী, ধনুর্ধারিণী এবং বাণ, ভুসন্ডী ও পরিঘাস্ত্রধারিণী (মহাকালী দশভূজা এবং দশ হস্তে দশপ্রহরধারিণী-বৈকৃতিরহস্য)।-(৮০-৮১)।। আপনি দেবগণের প্রতি সৌম্যা এবং দৈত্যগণের প্রতি ততোধিক রুদ্রা। আপনি সকল সুন্দর বস্তু অপেক্ষাও সুন্দরী। আপনি ব্রহ্মাদিরও শ্রেষ্ঠ। আপনি সর্বপ্রধানা দেবী এবং পরমেশ্বরের মহাশক্তি।-(৮১-৮২)।। হে বিশ্বরূপিণী, যে-কোনও স্থানে যাহা কিছু চেতন বা জড় বস্তু অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে হইবে সেই সকলের যে শক্তি, তাহা আপনিই। সুতরাং কিরূপে আপনার স্তব করিব? (বিশ্বপ্রপঞ্চে আপনি ভিন্ন যখন আর কিছুই নাই, তখন আপনার স্তব কিরূপে সম্ভব?)-(৮২-৮৩)।।

Published by BIOS2018

I, Dr. Asis Kumar Ray, founder President of Bengal Institute of Oriental Studies.

Leave a Reply

Discover more from Bengal Institute of Oriental Studies | Kriya Yoga, Oriental Studies & Spiritual Research

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading